প্রেগন্যান্সির ২য় Trimester-এর যত্ন

26 Sep, 2026   |   5 Min Read   |   11 Views

গর্ভাবস্থার ১৩ থেকে ২৭ সপ্তাহ পর্যন্ত সময়কে Second Trimester বা দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টার বলা হয়। অনেক মায়ের ক্ষেত্রে এই সময়ে প্রথম ট্রাইমেস্টারের বমি বমি ভাব ও অতিরিক্ত ক্লান্তি কিছুটা কমে আসে। একই সঙ্গে পেটের আকার বাড়তে থাকে এবং শিশুর নড়াচড়া অনুভব করা শুরু হতে পারে।
তবে প্রত্যেক মায়ের গর্ভাবস্থার অভিজ্ঞতা আলাদা। তাই এই সময়ে নিয়মিত গর্ভকালীন চেকআপ, সঠিক পুষ্টি এবং নিজের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার প্রতি নজর রাখা গুরুত্বপূর্ণ।
১. ২য় Trimester-এ কী কী পরিবর্তন হতে পারে?
দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টারে মা ও শিশুর শরীরে বেশ কিছু পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
পেটের আকার বৃদ্ধি
শিশুর দ্রুত বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে জরায়ুর আকারও বাড়তে থাকে। ফলে ধীরে ধীরে পেটের আকার স্পষ্ট হতে শুরু করে।
শিশুর নড়াচড়া অনুভব
অনেক মা দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টারের মাঝামাঝি সময়ে শিশুর প্রথম নড়াচড়া অনুভব করতে পারেন। সাধারণত ১৮–২০ সপ্তাহের আশেপাশে এটি অনুভূত হতে পারে, তবে প্রথমবার মা হওয়া বা অন্য বিভিন্ন কারণে সময়ের কিছুটা পার্থক্য হতে পারে।
শুরুতে নড়াচড়া খুব হালকা লাগতে পারে এবং পরবর্তী সময়ে তা আরও স্পষ্ট হতে পারে।
ওজন বৃদ্ধি
গর্ভাবস্থায় ধীরে ধীরে ওজন বৃদ্ধি স্বাভাবিক। তবে কতটা ওজন বাড়া উপযুক্ত তা গর্ভধারণের আগের ওজন, উচ্চতা ও সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ওপর নির্ভর করে।
ত্বকে পরিবর্তন ও Stretch Marks
পেট ও শরীরের বিভিন্ন অংশের ত্বক প্রসারিত হওয়ার কারণে Stretch Marks দেখা দিতে পারে। এগুলো গর্ভাবস্থায় খুব সাধারণ এবং সাধারণত ক্ষতিকর নয়।
২. নিয়মিত গর্ভকালীন স্বাস্থ্য পরীক্ষা করুন
দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টারেও নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে গিয়ে Prenatal Checkup করা গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী মায়ের:
রক্তচাপ
ওজন
রক্ত ও প্রস্রাবের পরীক্ষা
শিশুর বৃদ্ধি
অন্যান্য শারীরিক লক্ষণ
পর্যবেক্ষণ করতে পারেন।
Anomaly Scan
সাধারণত গর্ভাবস্থার ১৮–২২ সপ্তাহের মধ্যে একটি বিস্তারিত Ultrasound বা Anomaly Scan করা হতে পারে। এর মাধ্যমে শিশুর বিভিন্ন অঙ্গের গঠন ও বিকাশ সম্পর্কে বিস্তারিত দেখা হয়।
তবে ঠিক কখন কোন পরীক্ষা প্রয়োজন হবে তা চিকিৎসক গর্ভাবস্থার অবস্থা অনুযায়ী নির্ধারণ করবেন।
৩. পুষ্টিকর ও সুষম খাবার খান
দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টারে শিশুর বৃদ্ধি দ্রুত হয়। তাই মায়ের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত পুষ্টি থাকা গুরুত্বপূর্ণ।
খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন:
মাছ, ডিম ও ভালোভাবে রান্না করা মাংস
ডাল ও অন্যান্য প্রোটিনজাতীয় খাবার
দুধ, দই ও অন্যান্য নিরাপদ দুগ্ধজাত খাবার
শাকসবজি
মৌসুমি ফল
সম্পূর্ণ শস্যজাতীয় খাবার
বাদাম ও বীজ
পর্যাপ্ত পানি পান করুন এবং অতিরিক্ত চিনি, লবণ ও উচ্চপ্রক্রিয়াজাত খাবার সীমিত রাখুন।
৪. আয়রন ও ক্যালসিয়াম সম্পর্কে সচেতন থাকুন
গর্ভাবস্থায় আয়রন, ক্যালসিয়াম, ফোলিক অ্যাসিড, ভিটামিন Dসহ বিভিন্ন পুষ্টির প্রয়োজন হতে পারে।
চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী আয়রন, ক্যালসিয়াম বা অন্যান্য Prenatal Supplement দিতে পারেন। এগুলো চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্ধারিত মাত্রায় গ্রহণ করুন।
নিজের মতো করে কোনো সাপ্লিমেন্টের ডোজ পরিবর্তন করবেন না।
৫. নিরাপদভাবে হাঁটা ও ব্যায়াম
জটিলতাহীন গর্ভাবস্থায় এবং চিকিৎসকের অনুমতি থাকলে নিয়মিত হালকা শারীরিক কার্যক্রম উপকারী হতে পারে।
যেমন:
হালকা হাঁটা
গর্ভাবস্থার উপযোগী Stretching
চিকিৎসকের পরামর্শ দেওয়া Prenatal Exercise
প্রতিদিন কতক্ষণ ব্যায়াম করবেন তা আপনার শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসকের পরামর্শের ওপর নির্ভর করবে।
ব্যায়াম করার সময় মাথা ঘোরা, শ্বাসকষ্ট, তীব্র ব্যথা, রক্তপাত বা অন্য কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে ব্যায়াম বন্ধ করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৬. ঘুম ও বিশ্রামের যত্ন
পেট বড় হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘুমানোর অবস্থান নিয়ে অস্বস্তি হতে পারে। পাশে কাত হয়ে শোয়া অনেক মায়ের জন্য আরামদায়ক হতে পারে।
বিশেষ করে গর্ভাবস্থার পরবর্তী সময়ে দীর্ঘক্ষণ চিৎ হয়ে শোয়া এড়িয়ে পাশে কাত হয়ে বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হতে পারে। প্রয়োজন হলে পায়ের মাঝে বা পেটের পাশে Pregnancy Pillow ব্যবহার করে আরামদায়ক অবস্থান তৈরি করা যেতে পারে।
আপনার জন্য কোন ঘুমের অবস্থান সবচেয়ে উপযুক্ত তা নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারেন।
৭. মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিন
গর্ভাবস্থায় শারীরিক পরিবর্তনের পাশাপাশি মানসিকভাবেও নানা অনুভূতি তৈরি হতে পারে। উদ্বেগ, ভয়, দুশ্চিন্তা বা মেজাজের পরিবর্তন হতে পারে।
এই সময়ে:
পরিবারের সঙ্গে নিজের অনুভূতি শেয়ার করুন।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিন।
পছন্দের নিরাপদ কাজ বা শখের জন্য সময় রাখুন।
প্রয়োজন হলে সঙ্গী, পরিবারের সদস্য বা চিকিৎসকের কাছ থেকে সহায়তা নিন।
পরিবারের সদস্যদেরও মাকে মানসিকভাবে সহযোগিতা করা এবং দৈনন্দিন কাজে প্রয়োজনীয় সাহায্য করা উচিত।
৮. কোন লক্ষণগুলোতে সতর্ক হবেন?
দ্বিতীয় ট্রাইমেস্টারে কিছু অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।
যেমন:
যোনিপথে রক্তপাত
তীব্র বা ক্রমবর্ধমান পেটব্যথা
পানি পড়ার মতো তরল বের হওয়া
তীব্র মাথাব্যথা বা চোখে ঝাপসা দেখা
মুখ বা হাত-পা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া
জ্বর
শ্বাসকষ্ট বা বুকব্যথা
শিশুর নড়াচড়া নিয়মিত অনুভব করার পর হঠাৎ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়া
এ ধরনের লক্ষণ দেখা দিলে নিজে থেকে ওষুধ না খেয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
শেষ কথা
Pregnancy-এর ২য় Trimester অনেক মায়ের জন্য তুলনামূলকভাবে স্বস্তিদায়ক সময় হলেও এই সময়েও নিয়মিত Prenatal Care অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত বিশ্রাম, নিরাপদ শারীরিক কার্যক্রম, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা এবং মানসিক প্রশান্তির দিকে নজর দিন।
মনে রাখবেন, প্রতিটি গর্ভাবস্থা আলাদা। তাই আপনার চিকিৎসকের দেওয়া পরামর্শ ও নির্ধারিত পরীক্ষা-নিরীক্ষার সময়সূচি অনুসরণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।